দাম বাড়ছে স্বর্ণের। এর ধারাবাহিকতায় ভারতের বাজারে কমছে মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা। বড় ছাড় ঘোষণা করেও ক্রেতা পাচ্ছেন না দেশটির গহনা ব্যবসায়ীরা। একই পরিস্থিতি ভারতের প্রতিবেশী দেশ চীনে। প্রতি বছর এ সময় দেশটিতে পণ্যটির চাহিদা থাকে সবচেয়ে কম। এবারো তার ব্যত্যয় হয়নি। বৃহত্তম এ দুই বাজারের চাহিদা মন্দা সার্বিকভাবেই চাপে ফেলে দিয়েছে এশিয়ার স্বর্ণ খাতসংশ্লিষ্টদের। খবর রয়টার্স।
ভারতে অভ্যন্তরীণভাবে স্বর্ণের দাম শুক্রবার প্রতি ১০ গ্রামে ছিল ৭৬ হাজার ৮০০ রুপি, এ সপ্তাহে যা ছিল ৭৪ হাজার ৮৫২ রুপি।
মুম্বাইভিত্তিক একটি প্রাইভেট বুলিয়ন আমদানি ব্যাংকের ডিলার বলেন, ‘রুপির বিনিময় হার কমে যাওয়ায় আমদানি আরো ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। তাই গহনা ব্যবসায়ীরা ক্রয় বন্ধ রেখেছেন।’
ভারতীয় ডিলাররা চলতি সপ্তাহে স্বর্ণের স্থানীয় দামের ওপর প্রতি আউন্সে ২ ডলার পর্যন্ত ছাড় দিয়েছেন। এর মধ্যে ৬ শতাংশ আমদানি শুল্ক ও ৩ শতাংশ বিক্রয় শুল্ক অন্তর্ভুক্ত ছিল। গত সপ্তাহে ভারতে স্বর্ণের সংযোজিত মূল্য ছিল আউন্সপ্রতি ৩ ডলার পর্যন্ত।
নয়াদিল্লিভিত্তিক এক স্বর্ণকার বলেন, ‘চলতি সপ্তাহে খুচরায় স্বর্ণের চাহিদা ছিল কম। বিয়ের মৌসুম চলছে। এর পরও অনেক ক্রেতা দাম কমার অপেক্ষায় আছেন।’
ইনপ্রোভডের মূল্যবান ধাতু ব্যবসায়ী হুগো প্যাসকেল বলেন, ‘ডিসেম্বরে সাধারণত স্বর্ণের চাহিদা কম থাকে। জানুয়ারিতে আবার এর চাহিদা বাড়তে থাকে।’
চলতি সপ্তাহে চীনের ডিলাররা আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দামের ওপর আউন্সপ্রতি ১১-১৫ ডলার ছাড় দিয়েছে। এর আগের সপ্তাহে ছাড়ের পরিমাণ ছিল আউন্সে ১৯-২১ ডলার।
এমকেএস পাম্পের গ্রেটার চায়নার আঞ্চলিক পরিচালক বার্নার্ড সিন বলেন, ‘এটি প্রচুর সরবরাহ ও দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদার ইঙ্গিত দেয়। এছাড়া রেনমিনবিতে স্বর্ণের উচ্চ মূল্যও এ প্রবণতায় ভূমিকা রাখতে পারে।’
সিঙ্গাপুরে ডিলাররা প্রতি আউন্স স্বর্ণে ১ ডলার ২০ সেন্ট থেকে ২ ডলার ২৫ সেন্ট সংযোজন করেছেন। অন্যদিকে হংকংয়ে এটি ছিল ১ ডলার ৪০ সেন্ট থেকে ২ ডলার ৫০ সেন্ট।